পানির ন্যায্য অধিকার চাই: গোদাগাড়ীবাসীকে বঞ্চিত করে জল নিয়ে যাওয়া চলবে না
আপডেট সময় :
মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
৬৫৬
বার পঠিত
— সাবেক চেয়ারম্যান হযরত আলীর হুঙ্কার
সারোয়ার সবুজ
”পানি নিয়ে বৈষম্য গোদাগাড়ীর মাটিতে মেনে নেওয়া হবে না।” – এই দৃপ্ত ঘোষণা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল গোদাগাড়ীর মাটি। তীব্র জলসংকট ও বঞ্চনার প্রতিবাদে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ’।
মানববন্ধন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও সাবেক গোগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হযরত আলী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, গোদাগাড়ী থেকে ওয়াসার ট্রান্সপ্লান্ট ট্রিটমেন্ট পাইপ লাইনে করে যখন শহরের জন্য পানি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন এই অঞ্চলের মানুষ আর্সেনিকযুক্ত জল পান করতে বাধ্য হচ্ছে এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তীব্র অভাব বোধ করছে।
তিনি আরও বলেন, “শহরের মানুষ যেমন মানুষ, আমরা গ্রামের মানুষরাও মানুষ। মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য চলবে না। আমাদের গোদাগাড়ীবাসীর হিস্যা পূরণের পরই কেবল শহরের চাহিদা পূরণ করা হোক। আমাদের বাদ দিয়ে একফোঁটা পানিও যেতে দেওয়া হবে না। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ জলের সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে হবে।
১৪ অক্টোবর, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। বিশেষত আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে ছিল তাদের ক্ষোভ ও দাবি লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড: “সম্পদ ব্যবহারে স্থানীয় সিদ্ধান্তের অধিকার চাই,” “গোদাগাড়ী বাসীর অঙ্গীকার পানির ন্যায্য অধিকার,” এবং “আমাদের পানি আমাদের অধিকার।”
আদিবাসী নারী মুক্তা রাণী বলেন, “আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। ঠিকমতো পানি পাই না। যা পাই তাতে আর্সেনিক। অনেক বাড়িতে টিউবওয়েলে জল ওঠে না। আর এদিকে তারা শহরে পানি নিতে তোড়জোড় করছে। আগে আমাদের জলের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর শহরের মানুষ পানি পাবে।”
ক্ষতিপূরণ ও গ্যাসের দাবি
গোদাগাড়ী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক মোস্তারুজ্জামান লাভলু বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলে আর্সেনিকের সমস্যা, পানির স্তর নেমে যাওয়া—এসব আমাদের জন্য চরম সংকটের সৃষ্টি করেছে। সুলতানগঞ্জ থেকে লক্ষ লক্ষ লিটার পানি নিয়ে যাবে, আর আমরা বঞ্চিত হয়ে বসে থাকব, এটা হতে পারে না। তানোরসহ গোদাগাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের জন্য আমরা পরিশোধিত (ট্রিটমেন্টের) পানি চাই। আমার পানি আমি আগে চাই, তারপর অন্য জায়গায় যাবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয়দের ঘর ভেঙে পাইপ লাইন বসানোর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং গোদাগাড়ী বাসীর জন্য পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থাও করতে হবে।
উল্লেখ্য, পদ্মা নদী থেকে উত্তোলিত বিশুদ্ধ পানির ন্যায্য অংশ গোদাগাড়ী উপজেলার জনগণের জন্য বরাদ্দের দাবিতে গতদিনই পরিষদ রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার এই মানববন্ধন শেষে ইউএনওকে দাবিপত্রের অনুলিপি দেওয়া হয়।