রাজশাহী রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেন।
লুকানো হয়েছে ৭৩ লাখ টাকার তথ্য: মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শাহানা পারভীন ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুদকে যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছিলেন, সেখানে তিনি মাত্র ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেন। কিন্তু দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে তার নামে ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান মেলে। অর্থাৎ, সুকৌশলে তিনি প্রায় ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
বৈধ আয় ৭ লাখ, সম্পদ কোটি টাকার: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শাহানা পারভীনের বৈধ আয়ের উৎস মাত্র ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু তার জীবনযাপন ও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস খুঁজে পায়নি দুদক। সংস্থাটির দাবি, এএসপি মীর্জা সালাম তার পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত অবৈধ অর্থ স্ত্রীর নামে বিনিয়োগ করেছেন।
পুরনো আমলনামা ও বহুতল ভবন: উল্লেখ্য, মীর্জা আব্দুস সালাম এর আগে রাজশাহী মহানগর ডিবিতে কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ‘আটক বাণিজ্য’ ও ‘মাসিক মাসোহারা’ আদায়ের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, অবৈধ আয়ের টাকা দিয়ে তিনি নগরীর বহরমপুর এলাকায় একটি আলিশান বহুতল বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার: মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “আমাদের সব সম্পদের বৈধ ট্যাক্স দেওয়া আছে। এগুলো আমার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে।”
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, মামলাটির তদন্ত চলবে। এই দুর্নীতির পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।