1. admin@godagarinews24.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোদাগাড়ীতে পরিবেশ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ২ মামলায় ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা জরিমানা।  গোদাগাড়ীতে রক্ষাগোলা সদস্যদের পরিবেশবান্ধব বালাই দমন প্রশিক্ষণ সমাপ্ত গোদাগাড়ীর কৃতি সন্তান শিহাব শাহরিয়ার রাজশাহী জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব মনোনীত গোদাগাড়ীতে মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি রাজশাহীতে দোয়া ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হলো সাংবাদিক নেতা মুহম্মদ আলতাফ হোসেনকে সার-ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে কৃষক দল নেতার সংবাদ সম্মেলন গোদাগাড়ীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত “ভুয়া ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের চরিত্রহরণ” নেপথ্যের কুশীলবদের গ্রেফতারে আরএমপিকে রাজশাহী প্রেসক্লাবের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম গোদাগাড়ীতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত। বন্দি নির্যাতন ও অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ গাইবান্ধা কারাগারে জেলার মুনির ও পিআই আরিফের বেপরোয়া সিন্ডিকেট

মান্দায় ভুল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০২৪
  • ৩৭৭ বার পঠিত

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :নওগাঁর মান্দায় ভুল অপারেশনে রিনা রাণী (২৬) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার প্রসাদপুর মেডিকেল মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিকে এঘটনা ঘটে। ভুল অপারেশনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় মৃত্যু বরণ করেন তিনি। নিহত রিনা রাণী (২৬) উপজেলার ১৪ নং বিষ্ণপুর ইউনিয়নের চকশৈল্যা বাজারের লালন চৌধুরীর স্ত্রী।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিকে নেওয়া হয় রিনা রাণীকে। ডাক্তার আব্দুস সোবহান তত্ত্বাবধানে দুপুর আড়াই টার দিকে রোগীর সিজার অপারেশন হয় এবং একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে রিনা রাণী । তবে অপারেশনের পরই রিনা রাণী’র প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এমতাবস্থায় রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান যে,রোগীর রক্ত লাগবে। একথা শোনার পর রোগীর স্বজনরা দিশেহারা। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে কোন একজন সহৃদয় ব্যাক্তির মাধ্যমে একব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করার পর ওই রোগীর শরীরে দেয়া হয়। এরপরেও রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় এবং জ্ঞান না ফিরায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের আত্মরক্ষার্থে সু- কৌশলে একটি মাইক্রো ভাড়া করে আনেন।এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলো রোগীর স্বজনদের তাড়াহুড়ো করে ওই গাড়িতে উঠিয়ে দেন। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন তাকে।

এ ঘটনায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে ওই ক্লিনিকের সামনে ও ভেতরে বিক্ষোভ করে স্বজনরা। পরে আপোষের আশ্বাসে ফিরে যায় তারা। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যস্থতায় নিহতের অপারেশন,পরীক্ষা-নিরিক্ষা,গাড়ি ভাড়া,ঔষুধপত্র এবং শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ ৯১ হাজার টাকা দিতে চান ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ । বর্তমানে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে তালবাহানা করছেন ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা। ক্লিনিক পরিচালনাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। আর সে কারণে এ ঘটনায় প্রায় একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোন ব্যাবস্থা নেয়নি প্রশাসন। অপরদিকে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাহ করা হয়।

নিহতের স্বামী লালন চৌধুরী বলেন, ‘৭ হাজার টাকায় সিজারের জন্য চুক্তি করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এরপর আল্ট্রসনোগ্রাম,রক্ত এবং অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ১২’শ টাকা নেয়। পরীক্ষা করানোর পর স্যালাইন দিয়ে কিচ্ছুক্ষণ পরে নিচতলা থেকে দোতলায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান রোগীকে। তখন আমরা বলেছি যে, রোগীর অপারেশনটা যেনো ভালো হয়। এতে যত টাকা চান আমরা দিতে রাজি আছি। কিন্তু সিজার করার পর অপারেশন থিয়েটার থেকে বাচ্চাটাকে বের করে দেওয়ার পর অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও রোগীকে বের করে না দেওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা বারবার রোগীর শারিরিক অবস্থা জানতে চান। তখন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান যে,রোগীর অবস্থা ভালো আছে। টেনশন করবেন না। তবে রোগীকে রক্ত দিতে হবে। তাদের কথামত,অনেক কষ্টের পর একব্যাগ রক্ত ম্যানেজ করা হয়। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই জানান যে, রোগীর অবস্থা ভালো না, তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন দেখি স্ত্রীর জ্ঞান ফেরেনি। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্য মুক্তিযোদ্ধা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন তিনি। এজন্য এর ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি।’

এ বিষয়ে জানতে ডাক্তার আব্দুস সোবহানকে ফোন করা হলে তিনি ওটিতে আছেন,পরে কথা হবে বলে মোবাইল ফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খোদাবক্স বলেন, ‘
বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের লোকজনসহ বসার কথা রয়েছে।এগুলো নিয়ে আর কিছু করার দরকার নেই। এমনিতেই আমরা অনেকটা লসের মধ্যে আছি।’

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ গোদাগাড়ী নিউজ 24
Theme Customized By Shakil IT Park