সারোয়ার সবুজ-: রাজশাহী দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৬৭ নং দেবীনগর মৌজার রাজশাহী অফিসের অধীনে ২০০৭ সাল হতে বি.আর.এস জরিপ শুরু হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন কার্য প্রক্রিয়া শেষ করে ১৮ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখ হতে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত চার্জ অফিসার স্বাক্ষরিত ১৬৭নং দেবীনগর মৌজার চুড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ান মহরত দিয়ে বিতরণ শুরু করেন। সাধারণ জনগণ ঐ চূড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ান নিতে গেলেই বাঁধে বিপত্তি। ১শ টাকার খতিয়ান ৪ থেকে ৫শ টাকা এবং ৫শ টাকার নক্সা ৮শ থেকে ১হাজার টাকায় বিক্রি শুরু করেন। বিষয়টি ভুক্তভোগীরা অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত চার্জ অফিসার আতিয়ার রহমান সাহেবকে অবহিত করিলে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। উল্টো সেবা গ্রহিতাদের বলেছেন আমার চেয়ার ও কলমের ক্ষমতা অনেক বেশি। আমি যেভাবে অফিস চালাবো সে ভাবেই চলতে হবে।
আইন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এটি পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিতরণ কার্যক্রমে হয়রানী করা হয়।
১৩ থেকে ১৪ দিন পর ভুক্তভোগীরা খতিয়ান নিতে আসলে খতিয়ান বিলি কারক কর্মচারীরা বলেন, আতিয়ার সাহেব খতিয়ান বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছেন। তারপর আতিয়ারের কাছে চূড়ান্ত প্রকাশিত খতিয়ানের কথা বললে তিনি ভূমির মালিকদেরকে বলেন, খতিয়ান বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। ১ মাস পরে আসেন। এরই মধ্যে অতিঃ দায়িত্ব প্রাপ্ত চার্জ অফিসার আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত সিপিসি নোটিশকারক সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে ভূমি মালিকদেরকেকে ডেকে বলেন, কি ভাবে রেকর্ড করেছেন মালিকানা কাগজপত্র দেখান। আবার মোবাইল ফোনেও ডাকেন।
পার্শবর্তী মৌজার চূড়ান্ত খতিয়ান পাওয়ার পরে এরকম কোন সমস্যা হয়নি বললে আতিয়ার সাহেব বলেন, ৪২ (ক) ও ৫৩৩ ধারা মোতাবেক রেকর্ড কাটাকাটি করার ক্ষমতা আমার আছে।
আতিয়ার সাহেব ও নোটিশ জারীকারক সাইফুল ইসলামের সৃষ্ট দালাল হাবিবুর রহমান রেকর্ড করে দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়েছেন। দালাল রহমতও এর ব্যতিক্রম নয়। হাবিবুর ও রহমতকে রেকর্ডের বিষয়ে বললে তারা বলেন, তাদের নিজের কোন জমি নাই কিন্তু তাদের আত্মীয়স্বজনের জমি আছে বলে রেকর্ড সংশোধনের জন্য অফিসে যেতে হয়।
১০ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ এ দেবীনগর এলাকার জন সাধারণ দলবদ্ধভাবে বিষয়টি আতিয়ার রহমানকে অবহিত করলে তিনি হাত জোড় করে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এবং পরবর্তীতে এ সমস্যা না হওয়ার আশ্বাস দিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলেন। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জে খসড়া বিক্রির ব্যবস্থা করার কথা বলেন। কিন্তু তিনি তা না করে আগের মতই রাজশাহী দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসেই খতিয়ান, নকশা বিক্রি শুরু করেন। এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় শুরু করেন। এ অবস্থায় ২০ শে অক্টোবর ২০২৪ তারিখে আতিয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ এনে মহাপরিচালক বরাবর স্বারক লিপি দেন এলাকাবাসী। এতে আতিয়ারকে বদলির আদেশ দেন মহা পরিচালক। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে আতিয়ার রহমান তার কর্মস্থল ছাড়েননি।
দেবীনগর মৌজার কৃষক বাবলু মাঠ বোঝার সার্টিফাইড কপির জন্য বারবার ঘোরাঘুরি করে জানতে পারেন, তাদের রেকর্ডের সব কাগজপত্র আতিয়ার সাহেব ঢাকায় নিয়ে গেছেন। এখন ঢাকায় কাজ হচ্ছে।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আতিয়ারকে মৌখিক আদেশে ঢাকা সেটেলমেন্ট অফিসে নিয়োগ করা হয় এবং সেখানেই তিনি বহাল তবিয়তে আছেন।
এ বিষয়ে জানতে দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিস ঢাকায় গেলে উপসচিব খান মোঃ নাজমুস শোয়েব প্রতিবেদকের সাথে দেখা করেননি।
চার্জ অফিসার সাইয়েদুল আরেফিন দেখা করে বলেন, সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। তদন্ত করছেন দুজন কর্মকর্তা ইয়াসমিনা আক্তার ও সুজন কান্তি। এছাড়াও অনিয়মের অভিযোগে রাজশাহী থেকে বদলি করা হয় আতিয়ার হোসেনকে বরিশালে, আলমগীর পেশকারকে চট্টগ্রামে, আলী আকবরকে চট্টগ্রামে, সাইফুল পিয়ন ও সৈয়দ আলী পিয়নকে চট্টগ্রামে বদলী করা হয়।
এই বছর ছয় মাসের জন্য মোট ২৬ জনকে নিয়োগ করা হয়। নিয়োগে তিনজন করে কনট্রাকচুয়াল নিয়োগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
উপসচিব খান মোঃ নাজমুস শোয়েব ফোন কলে নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করছে কিছু স্বার্থাণ্বেষী মহল।