নুরে ইসলাম মিলন
প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নওগাঁ নিয়ামতপুরে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের গুজিশহরের গুজিশহর উচ্চবিদ্যালয় ও মন্দিরের উন্নয়নকল্পে শুরু হয়েছে প্রেম গোসাই মেলা। গত ৩০জানুয়ারী ২০২৪ইং তারিখ থেকে চলছে এ মেলা। মেলায় প্রতিদিন দুপুর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানোর কারণে বিপাকে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার ও নিয়ামতপুর থানার ওসিকে বার বার এমন নোংরা মেলা বন্ধে অভিযোগ করা হলেও মেলা কমিটি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের কাছের লোকজন হওয়াই তাদের মেলা চলমান রয়েছে। তবে মেলা কমিটি বলছে তারা মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সুপারিশে আজকে সন্ধায় ১৫দিনের মেলা করার অনুমতি নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকবছর থেকে নিয়ামতপুর উপজেলার গুজিশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মেলা বসলেও এবার এই মেলা সেখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে বসেছে। সেখানে সার্কাস পেন্ডেলে প্রদর্শিত হচ্ছে অশ্লীল নৃত্য। আর যাত্রাপালায় চলছে দর্শকদের মনোরঞ্জনে টাকার ফুলঝুরিতে মেয়েদের শরীর প্রদর্শনী। রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত শুধুই অশ্লীলতা ও বিকৃত যৌন আবেদনে ভরা উলঙ্গ নৃত্য এবং অরুচিকর গানের আগ্রাসন। উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও গ্রাম্য যুবকসহ দূর-দূরান্তের বিকৃত মানসিকতার মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তাদের আড্ডায় জমে উঠছে মেলা প্রাঙ্গন। ভাবার বিষয় হচ্ছে, অশ্লীল নৃত্য চলাকালিন যাত্রা প্যান্ডেলে সংশ্লিষ্ট থানার একাধিক পুলিশ সদস্যকে পোষাক পরিহিত অবস্থায় নারীদেহের নগ্ন নৃত্য উপভোগ করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, সামনে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে মেলা কোনো মতেই করা ঠিক হয়নি। মেলার মাইক ও সাউন্ড বক্সের উচ্চশব্দে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়াও সন্ধ্যা হলে ছেলেরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে মেলায় চলে যায়। চোখের সামনে এমন অশ্লীলতার মেলা চললে নিজেদের আত্মসম্মান বোধ আর থাকে না। নৃত্যের সময় নর্তকীদের সাথে আবার অনেকেই অশ্লীলতায় অংশ নিয়ে আরো অনেক বেশি টাকা ব্যয় করছে।
তারা বলেন, মেলার আয়োজক কমিটি টাকা রোজগারের জন্য পরীক্ষার মধ্যেই মেলা চালু করেছে, যা নিন্দনীয়। দ্রুত মেলা বন্ধে তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।