স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন দাসপুকুর ও লক্ষ্মীপুর এলাকার আইডি বাগানপাড়া এখন প্রকাশ্যে মাদকের অন্যতম বড় আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের মধ্যেও থেমে নেই এখানকার বিষাক্ত বাণিজ্য। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে।
সরেজমিনে আইডি বাগান রেলক্রসিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অলিগলিতে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের বেচাকেনা। নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোটরসাইকেল, রিকশা ও হেঁটে এসে যেকোনো বয়সের মানুষ নির্বিঘ্নে সংগ্রহ করছে মাদক। কথা হয় আমিনুল নামের এক মাদকসেবীর সাথে; তিনি জানান, এলাকাটিতে দিনে-রাতে সব ধরনের মাদক মিলছে এবং ২০ থেকে ৩০ জন বিক্রেতা নিয়মিত এখানে সক্রিয় থাকে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই হাটের সিন্ডিকেটে কোনো পরিবর্তন আসেনি; শুধু পরিচয় বদলে একই চক্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এই বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছে। চক্রটির উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন—আইডি বাগানপাড়া এলাকার জনের স্ত্রী মোছাঃ সাইদা বেগম, সাজ্জাদের মেয়ে লিজা ও পিংকি, জামাই সনি, সম্রাটের স্ত্রী জরিনা বেগম ও তার নাতনি বন্যা, সাজ্জাদের স্ত্রী হাসনা বেগম ওরফে ডাকান্নি বেগম, জুয়েল,রাব্বুল শেখের স্ত্রী ভানু বেগম, টুনু শেখের স্ত্রী সুলতানা, বজলুর মেয়ে লাকি ও ফেলকি। এছাড়া লক্ষ্মীপুর বাঁকির মোড় ডোমপাড়া এলাকার সেলিমের ছেলে সম্রাট, ডিঙ্গাডোবা এলাকার সাজ্জাদের মেয়ে শিখা খাতুন এবং দাসপুকুর হাজারগঞ্জ এলাকার জনির স্ত্রী সাথী বেগম এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কথিত হোতা জুয়েল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই পুরো মাদকের সাম্রাজ্যের বর্তমানে মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সনি নামের এক শীর্ষ অপরাধী।
চক্রটির আগের প্রধান হোতা হাসনা বেগম ওরফে ডাকান্নি সম্প্রতি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলে তার স্থলাভিষিক্ত হয় জামাই সনি। সনির বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার পাশাপাশি হত্যা মামলাও রয়েছে। শাশুড়ি জেলে যাওয়ার পর থেকে সে একছত্রভাবে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে।
রাজশাহী নগরীর মাদক বাজার ধরে রাখতে সনি দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ জন বেতনভুক্ত খুচরা বিক্রেতা (সেলার) নিয়োজিত রেখেছে। কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এই বিক্রেতাদের প্রতিদিন ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নগদে বেতন দেওয়া হয়।
এই বিশাল মাদকের হাট ও সিন্ডিকেট নিরাপদে সচল রাখতে সনি প্রতিদিন গড়ে ১.৫ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা অবৈধ অর্থ মাসোয়ারা হিসেবে ব্যয় করে। অসাধু চক্র, নামধারী কতিপয় সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের এই অর্থ দিয়ে হাত করে সে নির্দ্বিধায় কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে এই মহামারি বন্ধ করা যাবে না। মূল হোতা, হত্যা মামলার আসামি সনি এবং তার সহযোগীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলে তবেই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম।