সারোয়ার সবুজ:-
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট ২০২৬) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্তরের জনতা অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও ভোটাধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতেই জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ করেছে।
তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার, মেধার মূল্যায়ন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।”
রাষ্ট্রের সর্বস্তরে নিয়োগে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।
ন্যায়, ইনসাফ, জবাবদিহিতা ও জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই একটি প্রকৃত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
গোদাগাড়ী উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ নুমান আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী জেলার আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক, গোদাগাড়ী উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, জুলাই যোদ্ধা মোঃ মাহফুজুর রহমান, গোদাগাড়ী পৌর আমীর মোঃ আনারুল ইসলাম, এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তৌহিদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী জেলার কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ বিলাল উদ্দীন।
পৌর সেক্রেটারি মোঃ শওকত আলী ও এনসিপির মোঃ আব্দুল আলীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
সমাবেশ শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রূহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।