সারোয়ার সবুজ, গোদাগাড়ী (রাজশাহী):
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি অসহায় পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে অবৈধভাবে টয়লেট ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত মসজিদ কমিটির সভাপতির নাম নুর বখত শাহ। অন্যদিকে ভুক্তভোগী কামরুল হাসান গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি
ভুক্তভোগী কামরুল হাসান জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই ভিটায় বসবাস করে আসছেন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের রাস্তা সংলগ্ন তাদের নিজস্ব যাতায়াতের জমিও রয়েছে।
কিন্তু মসজিদ কমিটির সভাপতি নুর বখত শাহ অত্যন্ত অমানবিকভাবে সওজের মাটির ওপর টয়লেট নির্মাণ করে তাদের চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন।
আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি বহুদিন যাবত প্রশাসনসহ সওজের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, তবুও রাস্তার কোনো সুরাহা হয়নি। পৌর আদালত স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯-এর বিধি ৩৫ মোতাবেক অনুমোদনবিহীন দোকানঘর ও টয়লেট নির্মাণ বন্ধের জন্য আইনি নোটিশও জারি করেছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সভাপতি সেই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখেন এবং আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দেন।
রাস্তা বন্ধ থাকায় সম্প্রতি আমার বাবা-মায়ের লাশ পার্শ্ববর্তী বাড়ির প্রাচীরের ওপর দিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। একজন সন্তান হয়েও আমি এর প্রতিবাদ করতে পারিনি।”
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মর্জিনা বেগম বলেন, “বর্ষার সময়ে বাচ্চাদের ঠিকমতো বাইরে নিতে পারি না। রাস্তা বন্ধ হওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে গেছে।
ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির ভেতরে পানি জমে যায়। ছোট বাচ্চাগুলোকে নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।”
স্থানীয় ৮০ বছর বয়সী প্রতিবেশী সাজেমা বেগম জানান, এটি অনেক আগে থেকেই চলাচলের প্রধান রাস্তা ছিল, একসময় এই রাস্তা দিয়ে যানবাহনও চলত। এখন আমাদের বা আমাদের পরিবারের কারও মৃত্যু হলে লাশটা কোন পথ দিয়ে কবরস্থানে নেব? আমরা দ্রুত এই রাস্তাটি উন্মুক্ত চাই।
এ বিষয়ে সার্ভেয়ার নিজাম উদ্দিন (৫৫) বলেন, “পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। বৃষ্টি হলে তাদের বাড়িতে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায় এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না। মসজিদ কমিটি জোরপূর্বক রাস্তাটি ঘিরে ফেলেছে। সরকারি কিংবা প্রশাসনিক উদ্যোগে অবিলম্বে এদের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরীন ঝিনুক বলেন, “আমি বিষয়টি অবগত আছি এবং ইতোমধ্যে নোটিশও দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটের প্রয়োজন হয়, তাই ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে আলোচনা করে খুব শীঘ্রই এটি উচ্ছেদ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ইসরাত জাহান জানান, “আমি যোগদানের পর বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না। এ বিষয়ে নতুন করে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”