সারোয়ার সবুজ:-
গত বৃহস্পতিবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘গোদাগাড়ী নিউজ ২৪’-এ গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন ও নদীপাড়ের মানুষের চরম দুর্ভোগ নিয়ে একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরই স্থানীয় প্রশাসন ও নীতিনির্ধারক মহলে তাৎক্ষণিক গুরুত্ব তৈরি হয়। এর প্রেক্ষিতেই আজ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নদীভাঙন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইন সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন।
সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় কুঠিপাড়া, সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জ এলাকায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ গণমাধ্যমে উঠে আসে। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এই দ্রুত সাড়া দেওয়ায় ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। 
পরিদর্শনকালে ইউএনও ইসরাত জাহান ও ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং ভাঙনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো ঘুরে দেখেন।
এ সময় কুঠিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো: ওয়াসিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমাদের দুর্দশার কথা ‘গোদাগাড়ী নিউজ ২৪’-এ আসার পরপরই প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ আমাদের দেখতে এসেছেন, এটি আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। নদী যেভাবে ধেয়ে আসছে, আমরা চরম আতঙ্কে আছি। ভিটেমাটি রক্ষায় দ্রুত কিছু না করলে সর্বস্ব হারাতে হবে।”
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, পৌর এলাকার ভাঙন পরিস্থিতিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এ সময় ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন এলাকাবাসীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন,
ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে যোগাযোগ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় এখনই যেন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়, অন্যথায় গোদাগাড়ী পৌর এলাকার বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতি পদ্মায় বিলীন হয়ে যাবে।