সারোয়ার সবুজ:-
দীর্ঘ ৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে আদালতের রায়ে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৫নং গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হজরত আলী। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পূর্বের ফলাফল ও গেজেট বাতিল করে হজরত আলীকে বিজয়ী ঘোষণা করে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন।
আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ে উল্লেখ করা হয়, গোদাগাড়ী উপজেলার ৫নং গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ১নং প্রতিপক্ষ মো. মজিবুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা সংক্রান্ত ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বরের প্রকাশিত গেজেট বাতিল করা হলো। একই সাথে মামলার দরখাস্তকারী মো. হজরত আলীকে ৫নং গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের বৈধ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং আদেশের কপি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ৫নং গোগ্রাম ইউনিয়নে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হজরত আলী এবং নৌকা প্রতীকে অংশ নেন মজিবর রহমান। ইউনিয়নের ১০টি কেন্দ্রে মোট ১৯ হাজার ৮৮টি ভোট পড়ে। এর মধ্যে আনারস প্রতীকে হজরত আলী পান ৯ হাজার ৮০১ ভোট এবং নৌকা প্রতীকে মজিবর রহমান পান ৯ হাজার ২৮৭ ভোট। প্রকৃতপক্ষে হজরত আলী ৫১৪ ভোটে স্পষ্ট ব্যবধানে বিজয়ী হন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ফরাদপুর সবুজ সংঘ ও পাবলিক লাইব্রেরি কেন্দ্রে হজরত আলী আনারস প্রতীকে ১ হাজার ২৭০ ভোট এবং মজিবর রহমান নৌকা প্রতীকে ৬৩৫ ভোট পান। কিন্তু তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান যোগসাজশ করে কারচুপির আশ্রয় নেন। ব্যালট বাক্স গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে নিয়ে গিয়ে ওই কেন্দ্রের ফলাফলে হজরত আলীর ভোট কম দেখিয়ে ৯৭০ এবং মজিবর রহমানের ভোট বাড়িয়ে ৯৩৫ করা হয়। এর মাধ্যমে হজরত আলীকে বাদ দিয়ে মজিবর রহমানকে ৮৭ ভোটে বিজয়ী দেখিয়ে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশ করা হয়।
ফলাফল জালিয়াতির বিরুদ্ধে হজরত আলী প্রথমে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে রাজশাহী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে হজরত আলীর আইনজীবী আব্দুল হামিদ বলেন, “কারচুপির মাধ্যমে জনগণের রায় ছিনতাই করা হয়েছিল। আইনি লড়াই শেষে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে হজরত আলীকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন।”
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আশরাফুজ্জামান মল্লিক বলেন, “দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।”
চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় মো. হজরত আলী বলেন, “আমি এর আগেও জনগণের ভালোবাসায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০২১ সালে গভীর রাতে ফল পরিবর্তন করে ফ্যাসিস্ট শক্তির সহযোগীরা আমাকে হারিয়ে দেয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের মাধ্যমে আমি আমার ও জনগণের অধিকার ফিরে পেয়েছি। এই রায়ে আমি এবং আমার ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”