সারোয়ার সবুজ:-
“যেখানে অধিকার বঞ্চনা, সেখানেই হুল”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কাকনহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ১৭১তম সাঁওতাল হুল (বিদ্রোহ) দিবস ২০২৬। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় শোষকদের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মৃতিচারণ ও দাবি আদায়ের শপথের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) সিসিবিভিও (CCBVO) ও ব্রেড ফর দি ওয়ার্ল্ড, জার্মানির সহযোগিতায় এবং রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটি ও স্থানীয় গ্রাম সংগঠনসমূহের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিটি সিসিবিভিও শাখা কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কাকন বাজার প্রদক্ষিণ করে। পরে কাকনহাট পৌরসভা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির সদস্য সিষ্টি টুডুর সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সিসিবিভিও’র কর্মসূচি কর্মকর্তা যোসেফ রামদাস হাঁসদা। তিনি সাঁওতাল হুল দিবসের প্রেক্ষাপট ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রক্ষাগোলা সংগঠনের নেতা রিপন টুডু, জুলিতা মূর্মূ ও রঘুনাথ পাহাড়িয়া।
বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, “১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১ বছর পার হলেও আমরা এখনো শোষন ও বঞ্চনার শিকার। সমতলের আদিবাসী হিসেবে এখনো স্বীকৃতি পাইনি, ফিরে পাইনি আমাদের ভূমির অধিকার।” তারা সরকারের কাছে সমতলের আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ, জমিদার ও মহাজনদের নির্যাতনের প্রতিবাদে সিধু ও কানু মুরমুর নেতৃত্বে সাঁওতালরা সশস্ত্র বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দেশপ্রেম ও সাহসিকতার সেই লড়াই ছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম। যুদ্ধে সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব এবং তাদের বোন ফুলোমনি ও ঝালোমনি মুরমুর আত্মত্যাগ আজও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অনুপ্রাণিত করে। ১৮৫৫ থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার সাঁওতাল যোদ্ধা প্রাণ দিয়েছিলেন।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিসিবিভিও’র ঊর্ধ্বতন কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিসিবিভিও’র সহ-সমন্বয়কারী মো: শাহাবুদ্দিন, ঊর্ধ্বতন কর্মসূচি কর্মকর্তা মো: নিরাবুল ইসলাম, কর্মসূচি কর্মকর্তা রুমা লাভলী মূর্মূ, পৌল টুডু এবং বিভিন্ন গ্রাম সংগঠনের সমাজ সংগঠক ও স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর সদস্যবৃন্দ।