সারোয়ার সবুজ:-
দেশের বাজারে পেঁয়াজের সংকট মোকাবিলা ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ‘নাসিক এন-৫৩’। কৃষি অফিসের প্রণোদনা ও সঠিক পরামর্শে এই পেঁয়াজ চাষ করে বিঘা প্রতি ৮০ থেকে ১০০ মণ ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট ১,১৫০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ ও উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে মোট ১৫৩ হেক্টর জমিতে এই পেঁয়াজের চাষ হয়েছে, যার গড় ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় ২৮ মেট্রিক টন।
কৃষকরা জানান, আগে সনাতন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করে বিঘা প্রতি মাত্র ৪০-৪৫ মণ ফলন পাওয়া যেত। এছাড়া বীজের উচ্চমূল্য ও অধিক পরিশ্রমের কারণে অনেকেই পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়েছিলেন। তবে গত ৪-৫ বছর ধরে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ করে চিত্র বদলে গেছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে যখন বাজারে পেঁয়াজের তীব্র সংকট থাকে, ঠিক তখনই এই পেঁয়াজ বাজারে আসায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা বলেন, “এই পেঁয়াজে খরচ ও পরিশ্রম অনেক কম। ফলনও আগের তুলনায় তিনগুণ বেশি। বাজারে চাহিদা থাকায় আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছি।” অনেক নতুন কৃষকও এই বাম্পার ফলন দেখে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, “গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মসলা ফসল। এটি আমাদের জাতীয় চাহিদা মেটাতে ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কৃষকরা যাতে সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান হতে পারেন, সেজন্য আমরা মাঠ পর্যায়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।”