গোদাগাড়ীতে মেম্বারের অসহযোগিতায় আটক ডাকাতকে ছেড়ে দিল জনতা:
ধানকাটা শ্রমিক জখম, এলাকায় ক্ষোভ!
সারোয়ার সবুজ:- ২৩ নভেম্বর ২০২৫
রাজশাহীর গোদাগাড়ী মোহনপুর ইউনিয়নে ডাকাতির চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতার হাতে এক ডাকাত আটক হলেও স্থানীয় ইউপি সদস্যের অসহযোগিতা ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন এলাকাবাসী।
ডাকাত দলের হামলায় গুরুতর আহত এক ধানকাটা শ্রমিক বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে মোহনপুর ইউনিয়ন এর ৬ নং ওয়ার্ডের দিগ্রাম গ্রামে।
অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধি ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য জামাল মেম্বারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ (রবিবার) রাত আনুমানিক ২টার দিকে দিগ্রাম গ্রামের একটি বাড়িতে ৪ জন ডাকাত হানা দেয়। বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী জড়ো হয়। এ সময় ডাকাত দল পালিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি ধানক্ষেতে অবস্থান নেয়।
রাত গভীর হওয়ায় এক ধানকাটা শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাত দলের মুখোমুখি হন।
ডাকাতরা তাকে একা পেয়ে চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করে। আহত শ্রমিকের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং ধাওয়া দিয়ে ডাকাত দলের ১ সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে বাকি ৩ জন পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত ওই শ্রমিককে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মেম্বারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাকাত আটকের পর রাত থেকেই ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল মেম্বারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ এক ঘণ্টা যাবৎ একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং ঘটনাস্থলে আসেননি। জনপ্রতিনিধির কোনো সাড়া না পেয়ে এবং নিরাপত্তার অভাবে শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসী আটককৃত ডাকাতকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
সকালে আহত শ্রমিকের পরিবার আইনি সহায়তার জন্য জামাল মেম্বারের কাছে গেলে তিনি তাদের ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ডাকাতের কাছ থেকে জব্দকৃত আলামতও তিনি গ্রহণ করেননি বা পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেননি।
জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ
জনপ্রতিনিধির এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে দিগ্রামসহ পুরো ৬ নং ওয়ার্ডে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, “যিনি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, তিনিই যদি এমন অসহযোগিতা করেন, তবে আমরা যাব কোথায়?”
এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত জামাল মেম্বারের পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল মেম্বারের সাথে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, “আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ বা তথ্য আসেনি।”