সারোয়ার সবুজ:-
রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত একটি পরিত্যক্ত কক্ষ এখন রূপ নিয়েছে জ্ঞানের এক আধুনিক আলোকবর্তিকায়। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিত্যক্ত কক্ষটিকে ঢেলে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঠাগার। এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছেন পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ।
নবনির্মিত এই লাইব্রেরিতে পাঠ্যবই ও রেফারেন্স বইয়ের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বিশ্বসাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী এবং শিশু-কিশোর উপযোগী নানাবিধ গ্রন্থ ও সাময়িকী। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশকে আনন্দদায়ক করতে এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, নান্দনিক বুকশেলফ এবং একটি বিশেষ ডিজিটাল কর্নার। ফলে শিক্ষার্থীরা এখন পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞানচর্চায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার এক চমৎকার সুযোগ পাচ্ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মানবিক, সচেতন ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই এই লাইব্রেরি নির্মাণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী জানায়, নতুন লাইব্রেরি তাদের বই পড়ার আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অবসর সময়কে সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে।
লাইব্রেরিটির রূপান্তর প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, “একসময়ের অবহেলিত একটি পরিত্যক্ত কক্ষ আজ জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। এটি দেখে ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস, পুঠিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এমন উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পাঠাভ্যাস বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বিকাশে যে ভূমিকা রাখে, তা দীর্ঘমেয়াদে একটি উন্নত প্রজন্ম গঠনে সহায়ক হবে। পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই লাইব্রেরিটি এখন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।