সারোয়ার সবুজ:-
বর্ষা মৌসুম এলেই যেন অভিশপ্ত হয়ে ওঠে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ১ নং গোদাগাড়ী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ধনঞ্জয়পুর গ্রামের মানুষের জীবন। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন কাঁচা রাস্তাটির কারণে বর্ষার সময় এই গ্রামটি মূল জনপদ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চলাচলের অনুপযোগী এই রাস্তায় রোগী পরিবহন কিংবা শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পিচ্ছিল আকার ধারণ করে। হাঁটু সমান কাদা আর বড় বড় গর্তের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল তো দূরের কথা, কোনো ভ্যান বা রিকশাও প্রবেশ করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের কোনো সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ঝুঁকি নিয়ে কাদার ওপর দিয়েই রোগী বহন করতে হয় স্বজনদের, যা অনেক সময় রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটায়।
গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, বর্ষার সময় এই রাস্তা দিয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। রাস্তাটি বেহাল হওয়ার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে বা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হয়। স্থানীয়দের নিজস্ব উদ্যোগে ইট-সুরকি ফেলে কিছুটা চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হলেও, স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় কয়েক দিন পরেই তা আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।
গ্রামের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এই রাস্তা দিয়ে বছরের পর বছর সীমাহীন কষ্ট করে আসছি। রাস্তাটি আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে গর্ভবতী মা ও অসুস্থ বৃদ্ধদের হাসপাতালে নেওয়ার উপায় থাকে না। গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে চাঁদা তুলে কিছু ইট বিছিয়েছিলাম, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়।”
ধনঞ্জয়পুর গ্রামবাসী তাদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। গ্রামবাসীদের একটাই দাবি, দ্রুত যেন জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি পাকাকরণ (কার্পেটিং) করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ১ নং গোদাগাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অত্র এলাকার সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী মনে করছেন, রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা হলে তাদের দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘব হবে এবং গ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।